ক্ষুধা লাগলেই তিন ভাই ছুটে যায় মায়ের কবরের পাশে।

ক্ষুধা লাগলেই তিন ভাই ছুটে যায় মায়ের কবরের পাশে।
হাতে থাকে খাবারের প্লেট, চোখে থাকে এক অদ্ভুত অপেক্ষা। তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারে না, যে মানুষটা প্রতিদিন নিজের হাতে খাইয়ে দিতেন, মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন, সেই মা আর কখনো ফিরে আসবেন না। এই গল্প পড়লে হয়তো আপনিও কিছু সময়ের জন্য নিজের মায়ের মুখটা মনে করবেন

মা শব্দটা ছোট। কিন্তু এই ছোট শব্দটার ভেতরে লুকিয়ে আছে একটা সন্তানের পুরো পৃথিবী। মা বেঁচে থাকলে মানুষ হয়তো সবসময় সেটা বুঝতে পারে না। কিন্তু মা চলে যাওয়ার পর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শূন্যতাটা চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সেই শূন্যতার এক হৃদয়বিদারক উদাহরণ হয়ে উঠেছে তিন ভাইয়ের গল্প।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন ভাইই বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকে তাদের পৃথিবী বলতে ছিল একজন মানুষ—তাদের মা। মা-ই তাদের খাওয়াতেন, গোসল করাতেন, অসুস্থ হলে পাশে বসে থাকতেন, রাতে ঘুম না আসলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তারা মায়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

কিন্তু কয়েক মাস আগে সেই মানুষটিই হঠাৎ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

মায়ের মৃত্যুর পর শুধু একটা মানুষ হারায়নি তারা, হারিয়েছে তাদের পুরো পৃথিবী। যাদের ভাষা সীমিত, অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষমতা সীমিত, তাদের জন্য এই শূন্যতা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, এখনো তিন ভাই ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি তাদের মা আর বেঁচে নেই। ক্ষুধা লাগলেই তারা খাবারের প্লেট হাতে মায়ের কবরের কাছে চলে যায়। কেউ একজন হয়তো ভাত তুলে দিয়েছে, কিন্তু তারা সেটা নিয়ে গিয়ে বসে থাকে কবরের পাশে। যেন মা একটু পরেই এসে বলবেন, “আয় বাবা, খেয়ে নে।”

কখনো তারা নীরবে কবরের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনো মাটির ওপর হাত রেখে বসে থাকে। আশপাশের মানুষ এই দৃশ্য দেখলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। কারণ তারা জানে, এই অপেক্ষার কোনো শেষ নেই।

একজন প্রতিবেশী বলেন, “ওরা এখনো মায়েরে খোঁজে। খাওনের সময় হইলেই কবরের কাছে যায়। মনে হয় মায়ে আইসা খাওয়াইবো।”

এই কথাগুলো শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে দৃশ্যটা তার চেয়েও অনেক বেশি কষ্টের। কারণ পৃথিবীতে এমন কোনো ওষুধ নেই, যা একজন সন্তানের মায়ের জন্য অপেক্ষা দূর করতে পারে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তিন ভাই হয়তো বড় বড় কথা বলতে পারে না, নিজেদের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু প্রতিদিন কবরের পাশে বসে তারা যা দেখিয়ে দিচ্ছে, সেটা হাজার কথার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।