এক পলকেই শেষ সব স্বপ্ন! ফটিকছড়িতে হাটে বিক্রির মুহূর্তে বজ্র/পা/তে মা/রা গেল মাদ্রাসাছাত্র রিয়াদের লক্ষ টাকার গরু

!
​বিশেষ মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন:
​একটি কোরবানির ঈদকে ঘিরে কতশত স্বপ্ন বোনে আমাদের দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো! নিজের সন্তানের মতো দিন-রাত এক করে একটি পশুকে লালন-পালন করা, তারপর হাটে এনে সেই কষ্টের পারিশ্রমিক পাওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, সব স্বপ্ন যখন সফল হওয়ার ঠিক দ্বারপ্রান্তে, তখনই এক আকস্মিক বজ্র/পা/তে মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে গেল এক মাদ্রাসাছাত্রের দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর প্রত্যাশা।
​📌 অনেক কষ্টে বোনা স্বপ্নের কোরবানির হাট
​ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের চামারদিঘি অস্থায়ী পশুর হাটে। স্থানীয় আবু হানিফা বাড়ির মাদ্রাসাছাত্র মো. রিয়াদ অনেক কষ্ট ও সাধনা করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একটি গরু লালন-পালন করেছিলেন। গত রবিবার (২৪ মে) দুপুরে তিনি গরুটি ভালো দামে বিক্রির আশায় চামারদিঘি হাটে নিয়ে যান। হাটে তোলার পর গরুটির চমৎকার গড়ন দেখে ক্রেতারাও বেশ পছন্দ করেন এবং ভালো দাম হাঁকাতে শুরু করেন।
​🌩️ আকস্মিক বজ্র/পা/ত এবং সব শেষ!
​হাটে রিয়াদের গরুটির দাম প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। আর মাত্র কিছুক্ষণ পরেই হয়তো গরুটি বিক্রি হয়ে যেত, রিয়াদের মুখে ফুটত এক চিলতে স্বস্তির হাসি। কিন্তু ঠিক তখনই আকাশ ভেঙে হঠাৎ শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি আর তীব্র মেঘের গর্জন। হাটের সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা থাকা অবস্থায় আচমকা একটি বিকট বজ্র/পা/ত সরাসরি গরুটির ওপর এসে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলেই মা/রা যায় রিয়াদের সেই স্বপ্নের সম্বলটি।
​নিজের চোখের সামনে লাখ টাকার গরুটি নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাদ্রাসাছাত্র রিয়াদ। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন—
​”অনেক কষ্ট করে গরুটি লালন-পালন করেছি। ভালো বিক্রির আশায় বাজারে এনেছিলাম, ক্রেতারাও ভালো দাম বলছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তের নিয়তির খেলায় আমার সব শেষ হয়ে গেল!”
​🩹 সরকারি অনুদানের আকুল আবেদন
​এই আকস্মিক ক্ষ/তি/র পর ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মমিন জানিয়েছেন, প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কোনো সরকারি তহবিল বা সুযোগ নেই। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে দুর্যোগকালীন বিশেষ সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে।
​🧠 আমাদের সমাজের প্রতি একটি মানবিক আহ্বান:
​রিয়াদের এই ক্ষ/তি শুধু একটি পশুর মৃ/ত্/যু নয়, এটি একটি মধ্যবিত্ত ছাত্রের স্বপ্ন এবং একটি পরিবারের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার গল্প। কোরবানির হাটে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে খামারি ও পশুদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
​আমরা স্থানীয় প্রশাসন, বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আকুল আবেদন জানাই—এই অসহায় মাদ্রাসাছাত্র রিয়াদের পাশে দাঁড়ান, যাতে সে এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।