বয়সে হাতের মুঠোয় থাকার কথা ছিল রঙিন খেলনা, সেই বয়সে জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মুঠোয় পুরে নিয়েছে সে!”—

আমাদের চারপাশে প্রতিদিন এমন কত শত গল্প হারিয়ে যায়, যার খবর আমরা রাখি না। কিন্তু কিছু কিছু গল্প চোখের সামনে এলে থমকে দাঁড়াতে হয়, বুকটা এক অজানা ক/ষ্টে ভারী হয়ে ওঠে। তেমনই এক শিশু হলো রাতুল। এক সাংবাদিক যখন তাকে মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?” রাতুল কোনো দ্বিধা না করে, মুখে এক চিলতে মিষ্টি হাসি নিয়ে উত্তর দিল—”আমি একজন আলেম হতে চাই।”
​একটু গভীরভাব ভাবুন তো… এই ছোট্ট বয়সে কত শিশু সামান্য অজুহাতে বা পরিবারের চাপে মানুষের কাছে হাত পাতে, ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেয়। আর সেখানে রাতুল নামের এই ছোট্ট শিশুটি নিজের ছোট্ট কাঁধে যেন পুরো পৃথিবীর দায়িত্ব তুলে নিয়েছে! যে বয়সে তার আপন মনে খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে দৌড়াদৌড়ি করার কথা ছিল, ধুলোবালি মেখে শৈশবকে উপভোগ করার কথা ছিল, ঠিক সেই বয়সেই সে জীবনের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধটা শিখে গেছে। হয়তো এই শিশুর ছোট্ট দুটো চোখের আড়ালেই লুকিয়ে আছে হাজারো অপূর্ণ স্বপ্ন, না পাওয়ার বেদনা আর রাতে বালিশে লুকানো কিছু চাপা কান্না!
​আমাদের সমাজের চারপাশের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের উচিত এই রাতুলদের পাশে এসে দাঁড়ানো, তাদের স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলার সুযোগ করে দেওয়া। কারণ, যে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই অভাব আর সংগ্রামের সাথে লড়াই করে বাঁচতে শেখে, তারা বড় হয়ে কখনো সমাজের বোঝা হয় না—বরং একদিন তারাই এই সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ ছোট্ট রাতুলের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে দিন, তাঁর দ্বীনের পথের এই স্বপ্নকে কবুল করুন এবং তার পুরো পরিবারকে সুস্থতা ও মানসিক শান্তি দান করুন। আমিন।