যে ৬ বছরের নিষ্পাপ শিশু জাবির ইব্রাহিম দেশের নতুন ভোরের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিল, আজ সেই কলিজার টুকরো সন্তানের মায়ের বজ্রকণ্ঠ পৌঁছে গেছে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদে!”—সম্প্রতি সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জুলাইয়ের শিশুশহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগমের আবেগঘন ও ঐতিহাসিক বক্তব্যটি পুরো দেশের মানুষের চোখে জল এনে দিয়েছে এবং নতুন করে জুলাইয়ের চেতনাকে জাগ্রত করেছে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানান—শহীদ পরিবার ও জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার মতো এই অনন্য ও মহান সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য। এরপর তিনি এক বুক হাহাকার আর মাতৃত্বের চরম সত্য উগরে দিয়ে বলেন—”একটি পরিবার যখন তার সন্তান হারায়, তখন শুধু একজন মানুষকে হারায় না; তারা হারায় একটি আজীবনের স্বপ্ন, একটি সোনালী ভবিষ্যৎ এবং পুরো পরিবারের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।”
সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে তিনি জুলাইয়ের বীর শহীদদের স্মৃতি রক্ষা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, শহীদদের গেজেটভুক্তির আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার চরম ধীরগতি নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ও জোরালো ভাষায় কথা বলেন। তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, যেখানে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪০০ জন বীর শহীদ হয়েছেন, সেখানে এখনো পর্যন্ত মাত্র ৮৬৫ জনকে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে! বাকি শহীদদের ফাইল কেন এখনো লাল ফিতায় বন্দি—সেই প্রশ্নও তিনি ছুড়ে দেন। একজন শহীদের মায়ের মুখে উচ্চারিত এই প্রতিটি শব্দ আজ দেশের কোটি কোটি শোকাহত ও বিপ্লবী পরিবারের অনুভূতির প্রতিধ্বনি।