হঠাৎ করেই চলন্ত একটি অটোরিকশার ভেতর থেকে ভেসে আসে এক নারীর বুকফাটা আর্তনাদ ও আকুতি। কান্নাভেজা কণ্ঠে চিৎকার করে তিনি বলছিলেন—

ব্যস্ত রাস্তার মাঝে যার যার মতো নিজের কাজে মগ্ন ছিলেন সবাই। কেউ বাজার সেরে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউ অটোরিকশায় বসে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখছিলেন, আবার কেউ হয়তো আপন মনে হেঁটে যাচ্ছিলেন। কেউ ভাবতেও পারেনি, আর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক বীভৎস ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

​”আমাকে ছেড়ে দিন… আমার স্বামী-সন্তান আছে… আমাকে দয়া করে নিয়ে যাবেন না…”
​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অটোরিকশার ভেতরে এক যুবক ওই নারীকে জোরপূর্বক শক্ত করে ধরে রেখেছে। নারীটি নিজেকে মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর চোখে-মুখে খেলা করছিল চরম আতঙ্ক, আর সেই কান্নার আওয়াজে যেন থমকে গিয়েছিল চারপাশ।
​সবচেয়ে পীড়াদায়ক বিষয় হলো, চারপাশে তখন বহু মানুষ উপস্থিত ছিল। অনেকেই তাকিয়ে দেখছিলেন, কেউ কেউ মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণও করছিলেন; কিন্তু সেই মুহূর্তে ওই নারীর ভেতরের তীব্র ভয় আর অসহায়ত্ব স্পর্শ করতে পারেনি কাউকে। একজন মা যখন আকুল হয়ে বলেন, “আমার স্বামী-সন্তান আছে”, তখন তিনি শুধু নিজের জীবন ভিক্ষা চান না; বরং চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাঁর অবুঝ সন্তানের মুখ, সংসার আর সাজানো স্বপ্নগুলো।
​হয়তো সকালে নিজের সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়ে, স্বামীকে “দ্রুত ফিরব” বলে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন এই নারী। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মাঝরাস্তায় তাঁকে এভাবে জীবনের নিরাপত্তার জন্য অনুনয় করতে হবে, তা ছিল কল্পনাতীত।
​ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণের চেষ্টা বলছেন, কেউ ভাবছেন এটি কোনো পারিবারিক কলহের জের, আবার অনেকের মতে—পুরো সত্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। তবে কারণ যা-ই হোক না কেন, নারীর সেই আতঙ্কিত চিৎকার দাগ কেটেছে লাখো মানুষের মনে।
​আজকের দিনে মানুষ অন্ধকার বা অপরিচিত কোনো স্থানকে যতটা না ভয় পায়, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় জনসম্মুখে নিজের নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলার এই চরম অসহায়ত্বকে। কারণ এক নিমেষেই ওলটপালট হয়ে যেতে পারে চেনা পৃথিবীটা।