মায়ের ভালোবাসার ও আত্মত্যাগের কোনো তুলনা হয় না, আর ফুটপাতের ধুলোবালিমাখা এই দৃশ্যটি দেখলে হয়তো আপনার হৃদয়ও এক লহমায় কেঁদে উঠবে!**
ছোট্ট ইব্রাহিমের বয়স এখন মাত্র ৬ বছর। সে যখন মায়ের গর্ভে মাত্র তিন মাসের এক ভ্রূণ, তখনই তার জন্মদাতা পিতা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে তাদের চিরতরে ফেলে রেখে নতুন করে সংসার শুরু করে। পিতৃহীন ইব্রাহিম ও তার আরেকটি বোনকে নিয়ে এরপর শুরু হয় এক অসহায় মায়ের একাকী বেঁচে থাকার কঠিন জীবনযুদ্ধ। কিন্তু শত অভাব আর অনটনের মাঝেও এই মা ভেঙে পড়েননি, সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দুজনকে ভর্তি করিয়েছেন মাদরাসায়।
এই সংগ্রামী মা প্রথমে নিজের ও সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাতে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে হাড়ভাঙা খাটুনির পর সন্তানদের পর্যাপ্ত সময়, যত্ন ও স্নেহ দিতে পারছিলেন না। তাই সন্তানদের নৈতিক ও সুন্দর জীবনের কথা ভেবে বাধ্য হয়েই সেই নিশ্চিত আয়ের চাকরিটি ছেড়ে দেন তিনি। সন্তানদের নিজের চোখের সামনে বুকে আগলে রাখতে এই মা বেছে নেন এক ভিন্ন এবং কঠিন পথ।
বর্তমানে তিনি রাস্তার ধারে ফুটপাতে ফুচকা ও চটপটি বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালান। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারেও সন্তানদের সত্যিকারের মানুষ করার স্বপ্নে তার এতটুকুও কমতি নেই। আর তাই তো ব্যবসার শত ব্যস্ততা, ক্রেতাদের ভিড় এবং ফুটপাতের ধুলোবালির মাঝেই দেখা যায় এক পরম সুন্দর ও আবেগঘন দৃশ্য—তিনি পরম মমতায় নিজের সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে কোরআন শিক্ষা দিচ্ছেন।
> “যেখানে একটু ভালো থাকার লোভে কত মানুষ কত কিছু বিসর্জন দেয়, সেখানে এই মা সন্তানদের সঠিক শিক্ষা আর সান্নিধ্য দিতে নিজের নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে ফুটপাতে এসে দাঁড়িয়েছেন; এর চেয়ে বড় ত্যাগের উদাহরণ আর কী হতে পারে!”
>
সন্তানের জন্য একজন মায়ের এই অপরিসীম আত্মত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গল্প সত্যিই আমাদের চোখে জল এনে দেয়। আসুন, এই মহীয়সী ও লড়াকু মায়ের সংগ্রামের প্রতি অন্তর থেকে গভীর সম্মান জানাই এবং প্রার্থনা করি—আল্লাহ যেন এই ।