টাকা-পয়সা সব শেষ হয়ে যাক, নিজে না খেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে দিন কাটাই

, তবুও যদি আমার দুই কলিজার টুকরো বেঁচে থাকত—দুনিয়ায় এর চেয়ে বড় কোনো সুখ আমার লাগত না!”—মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার হারুনুর রশিদ ও ইসরাত জাহান দম্পতির এই বুক ফাটা আ/র্ত/না/দ আজ প্রতিটি মানুষের চোখকে অশ্রুসিক্ত করতে বাধ্য। তাঁদের কোল আলো করে আসা মাত্র ১৩ মাস বয়সী দুই যমজ শিশু আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও আবদুল্লাহ আল নোমান আজ মা-বাবাকে নিঃস্ব করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে।
​ছোটবেলায় বাবা হারানো হারুনুর রশিদ ৪ বোনের পর পরিবারের একমাত্র ছেলে। বাজারে ছোট একটি মুদি দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দুই যমজ সন্তানের মরণব্যাধি চিকিৎসার জন্য গত তিন মাস ধরে দোকানপাট সব বন্ধ। ধারদেনা করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন, হাসপাতালের বারান্দায় না খেয়ে রাত পার করেছেন এই দম্পতি। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস—টাকাও গেল, আর বুক খালি করে দুই যমজ ছেলেও চিরতরে চলে গেল। এখন একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে দুই সন্তান হারানোর আজীবন ক্ষত নিয়ে পাগলপ্রায় এই অসহায় বাবা-মা!
​সন্তান হারানোর এই ভয়া/বহ শোক কোনো ভাষা বা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করার মতো নয়। একজন মেহনতি বাবার এই কান্না শুধু তাঁর একার নয়, এটি সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের সীমাহীন ভালোবাসা ও ভাগ্যের কাছে অসহায়ত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।