মাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ও সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, পাবনায় গভীর রাতে এক বিধবা নারীর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। আত্মরক্ষার জন্য ওই নারী দা দিয়ে হামলাকারীর পায়ে কোপ দেন, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পোস্টটিতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকা এক ব্যক্তির ছবি এবং অশ্রুসিক্ত এক নারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পোস্টে ঘটনার তারিখ, থানার নাম, অভিযুক্তের পরিচয় কিংবা মামলার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ভাইরাল দাবির উৎস
ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়া গ্রাফিকটি একটি ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট পেজ থেকে প্রচারিত হয়েছে। পোস্টটিতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবেগঘন ভাষা ব্যবহার করা হলেও কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র বা সরকারি নথির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে কী পাওয়া গেল?
জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, অনলাইন সংবাদপোর্টাল এবং সাম্প্রতিক অপরাধসংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার একাধিক ঘটনা বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দিনাজপুরে এক নারীর ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের খবর প্রকাশ করেছে প্রথম আলো।
একইভাবে ফরিদপুর, নোয়াখালী ও ভোলায় ঘরে ঢুকে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে ভাইরাল পোস্টে বর্ণিত “পাবনায় বিধবা নারী আত্মরক্ষায় দা দিয়ে হামলাকারীর পা কেটে দিয়েছেন”—এমন নির্দিষ্ট ঘটনার কোনো স্বতন্ত্র ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রতিবেদন অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানার বিবৃতি, পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অথবা স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ছবিগুলো কি ঘটনাটির?
ভাইরাল গ্রাফিকে ব্যবহৃত ছবিগুলোর ক্ষেত্রেও প্রশ্ন রয়েছে। ছবিতে দেখা নারী ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পোস্টে দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অনেক গ্রাফিকেই বিভিন্ন সময়ের বা ভিন্ন ঘটনার ছবি একত্র করে নতুন বর্ণনা দেওয়া হয়। ফলে শুধুমাত্র ছবি দেখে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।