পেটের দায়ে, বেঁচে থাকার লড়াইয়ে একটা ছোট্ট শিশু গৃহকর্মী হিসেবে এসেছিল এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায়। কোনো বেতন নেই, চুক্তি ছিল শুধু দু-মুঠো খাওয়া আর একটু আশ্রয়ের।

​কিন্তু সেই আশ্রয়ের নামে শিশুটির ওপর যা চলল, তা শুনলে যেকোনো সুস্থ মানুষের গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে!

লোহার গরম কড়াই দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হতো শরীর!
​হ্যাঁ, ঠিক পড়েছেন। সামান্য ভুলের অজুহাতে গরম কড়াই দিয়ে পিঠ আর গাল পুড়িয়ে দেওয়া হতো সেই নিষ্পাপ শিশুটির। মারধর তো ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার। প্রতিদিনের এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের এক বিবেকবান প্রতিবেশী জানালা দিয়ে লুকিয়ে সেই লোমহর্ষক দৃশ্যের ভিডিও করে রাখেন।

ভিডিও ফাঁস, অতঃপর এলাকাবাসীর ক্ষোভ!
​ভিডিওটি সামনে আসতেই এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

সুযোগ বুঝে তারা সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে সেই বাসায় প্রবেশ করে। কিন্তু ভেতরে গিয়ে যা দেখা গেল, তা আরও করুণ, আরও ভয়াবহ!

শরীরের এমন কোনো জায়গা বাকি নেই যেখানে মারধরের বা পোড়া দাগ নেই।

অনবরত মারের কারণে গাল ও মুখ ফুলে বিকৃত হয়ে গেছে।

শিশুটির ওপর কোনো যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে কি না, সেই গুরুতর প্রশ্নও এখন উঠেছে।

​সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, ধরা পড়ার পরও সেই পুলিশের স্ত্রী বড় গলায় দাবি করছেন— “মেয়েটি নাকি পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে!” ভাবুন একবার! ভাগ্য ভালো যে প্রতিবেশীর কাছে ভিডিও প্রমাণ ছিল, নাহলে হয়তো নিজেদের ক্ষমতার জোর খাটিয়ে উলটো এলাকাবাসীকেই ফাঁসিয়ে দেওয়া হতো।

অবশেষে সেই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর নামে মামলা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই অসহায় শিশুটি কি আসলেই শতভাগ ন্যায়বিচার পাবে? নাকি বরাবরের মতোই ক্ষমতার দাপটে কিংবা দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পর্দার আড়ালে সব ‘আপোস-মীমাংসা’ হয়ে যাবে?

​আমরা এই নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই পোস্টটি শেয়ার করে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে এবং শিশুটির বিচারের দাবিতে আওয়াজ তুলুন।