ছবির লোকটি স্বেচ্ছায় হিন্দু থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছে…

​কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, বিলাসবহুল জীবন আর ফ্যামিলির এতো বড় বিজনেস সবকিছু এক নিমেষে ছেড়ে দেওয়া কি মুখের কথা? কিন্তু উত্তর প্রদেশের শামলি জেলার ছেলে আয়ুষ মালিক ঠিক এই কাজটাই করেছেন। নিজের ভেতরের সত্যের খোঁজে তিনি আজ আয়ুষ থেকে মোহাম্মদ আলী।

​ঘটনাটা কিন্তু একদিনের না। আয়ুষ একটা ধনাঢ্য হিন্দু ব্যবসায়ী পরিবারে বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই চারপাশে ধর্মীয় পরিবেশ ছিল।
কিন্তু তাঁর মনে রিচুয়াল আর দেব-দেবী নিয়ে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খেত। প্রায় ১২ বছর আগে থেকেই তিনি পড়াশোনা আর রিসার্চ শুরু করেন।

ইন্টারনেটে ডা. ইসরার আহমেদসহ বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারদের লেকচার শুনে ইসলামের প্রতি তাঁর একটা অন্যরকম ভালোবাসা তৈরি হয়। তিনি বুঝতে পারেন, স্রষ্টা একজনই এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই।

​ব্যস, নিজের ইচ্ছায়, বুঝেশুনে কালেমা পড়ে মুসলিম হয়ে যান। নিজের নাম রাখেন মোহাম্মদ আলী। এরপর বিয়েও করেন এক মুসলিম মেয়েকে।

​আয়ুষের তিন বোন ছিল। তিনি চেয়েছিলেন বোনদের বিয়ে আর ফ্যামিলির দায়িত্বগুলো শেষ হওয়া পর্যন্ত বিষয়টা গোপন রাখতে, যাতে তাঁর জন্য ফ্যামিলি সমাজে কোনো সমস্যায় না পড়ে। কিন্তু রিসেন্টলি তাঁর ঈদের নামাজ পড়ার কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়।

​এরপর যা হওয়ার তাই হলো। চারপাশ থেকে চরম চাপ, আইনি ঝামেলা আর মিডিয়ার হইচই। কট্টরপন্থী বিভিন্ন সংগঠন তাঁর ফ্যামিলিকে দিয়ে থানায় মামলা পর্যন্ত করিয়েছে যে তাঁকে নাকি জোর করে বা লোভ দেখিয়ে মুসলিম বানানো হয়েছে!

​কিন্তু মোহাম্মদ আলী মিডিয়ার সামনে এসে বুক ফুলিয়ে বললেন,
​”আমি প্রাপ্তবয়স্ক, নিজের ভালো-মন্দ বোঝার বয়স আমার হয়েছে। কোনো চাপ বা লোভে পড়ে নয়, দীর্ঘ ১২ বছর ইসলাম নিয়ে স্টাডি করে আমি স্বেচ্ছায় এই পথ বেছে নিয়েছি।
কোটি টাকার সম্পত্তি না দিলেও আফসোস নেই, দরকার হলে গরিব হয়ে বাঁচবো, তাও ঈমান ছাড়বো না।”

​আল্লাহ মোহাম্মদ আলী ভাইকে ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন এবং সব রকমের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।