বগুড়ার নন্দীগ্রামে বান্ধবীর বাবার পাশবিকতার শিকার হয়ে পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী (১২) চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।
উপজেলার ছোট দামগাড়া (মাদারতলা) গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম মোঃ দোলা হোসেন (৩৫)। সে পেশায় একজন আইসক্রিম বিক্রেতা এবং ওই গ্রামের মোঃ মোজাফফর হোসেনের ছেলে।
এই ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে গত সোমবার (১ জুন) নন্দীগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত দোলা হোসেন পলাতক রয়েছে।
পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ভিকটিম তার প্রতিবেশী বান্ধবী মোছাঃ আছিয়া খাতুনের খোঁজে তাদের বাড়িতে যায়। ওই সময় বাড়িতে অন্য কোনো লোক না থাকার সুযোগে বান্ধবীর বাবা দোলা হোসেন ওই স্কুল ছাত্রীর ওপর চড়াও হয়। লম্পট দোলা ভিকটিমের মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা ও প্রাণনাশের ভয়ে শিশুটি বিষয়টি এতদিন গোপন রাখে।
সম্প্রতি ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে গত ২৪ মে তার মা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কোনো উপায় না পেয়ে শিশুটি মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে। পরবর্তীতে মায়ের উদ্যোগে ভিকটিমের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হলে রিপোর্টে জানা যায়, সে বর্তমানে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে কোনো সুরাহা না পেয়ে ভিকটিমের পরিবার নন্দীগ্রাম থানার শরণাপন্ন হয় এবং সোমবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করে, যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নন্দীগ্রাম থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজু কামাল জানান, এই নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামি দোলা হোসেন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।