বাজার থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর বাবার ভাগ্যে…

বাজার থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর বাবার ভাগ্যে…

বাবা চলে যাওয়ার পর পুরো বাড়ি যেন শূন্য হয়ে গেল। আমি তরমুজের বাকি টুকরোগুলো ফ্রিজে রেখে দিলাম। জানাজার আয়োজন চলছে। পাড়ার মসজিদের ইমাম সাহেব এসে বললেন, “রহিম, তোমার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর জন্য দোয়া করি।”

জানাজার সময় পুরো মসজিদ ভরে গিয়েছিল। সবাই বাবাকে শেষবার দেখতে এসেছে। আমি বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি বাবাকে অনেক কিছু দিতে পারিনি। শুধু একটা তরমুজ… সেটাও শেষ মুহূর্তে।

জানাজার পর যখন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন আমার ছোট ছেলে রিয়ান (বয়স ৭) আমার কাছে এসে বলল, “বাবা, দাদু তো তরমুজ খেতে চেয়েছিল। তুমি তো এনেছিলে। দাদু কেন চলে গেল?”

আমি ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম।

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আমি ফ্রিজ খুলে তরমুজের টুকরোগুলো বের করলাম। সবাইকে ডেকে বললাম, “আজ বাবার হয়ে সবাই একটু তরমুজ খাব।”

ঠিক তখনই আমার স্ত্রী বলল, “রহিম, দেখো এটা কী?”

তরমুজের ভিতরে একটা ছোট কাগজ। বাবা নিজের হাতে লিখেছিলেন (তিনি আগেই লিখে রেখেছিলেন, আমি যেদিন তরমুজ কাটব সেদিন যেন পাই)।

কাগজে লেখা ছিল:

“রহিম, আমি জানতাম আমার সময় শেষ হয়ে আসছে। তুই যদি তরমুজ আনিস, তাহলে জেনে রাখিস — আমি খুব খুশি হয়ে চলে যাব। তুই আমার সবচেয়ে ভালো ছেলে। তোর মা চলে যাওয়ার পর তুই-ই আমার সব ছিলি। আমাকে ক্ষমা করে দিস যদি কখনো কষ্ট দিয়ে থাকি। তোর বাবা।”

আমি কাগজটা পড়ে মেঝেতে বসে পড়লাম। অনেকক্ষণ কাঁদলাম। তারপর সবাইকে ডেকে কাগজটা পড়ে শোনালাম।

সেদিন রাতে আমরা সবাই মিলে তরমুজ খেলাম। প্রত্যেক টুকরোয় বাবার স্মৃতি। আমার ছেলে রিয়ান বলল, “বাবা, দাদু এখন স্বর্গে তরমুজ খাচ্ছে।”

আজ আমি বুঝেছি — বাবা শুধু তরমুজ চাননি। তিনি চেয়েছিলেন আমার সময়। আমার একটু যত্ন। আমার ভালোবাসা।

আমি প্রতিদিন বাবার কবরে যাই। একটা ছোট তরমুজের টুকরো নিয়ে যাই। বলি, “আব্বা, আজও তোমার জন্য এনেছি।”

বাবা চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর সেই শেষ হাসিটা আর কাগজের লেখাটা আমার বুকে চিরকাল থাকবে।

যাদের বাবা-মা এখনো আছেন, তাদের একটা কথা বলি — তাদের ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো আজই পূরণ করুন। কাল হয়তো দেরি হয়ে যাবে।