মাত্র ১৫ মিনিটের এই জাপানি রীতি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে হার্টকে করবে অবিশ্বাস্যভাবে সুস্থ

মানসিক চাপ কমানো, রক্তসঞ্চালন উন্নত করা এবং হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখা সবকিছুই কি সম্ভব ঘরে বসে মাত্র ১৫ মিনিটে? জাপানে বহু মানুষ এমন একটি সহজ দৈনন্দিন রীতি পালন করে থাকেন, যা যতটা সাধারণ, প্রভাব ততটাই বিস্ময়কর। সাম্প্রতিক এক পোস্টে পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখার এই রীতি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপকার দিতে পারে।

এই সময়টি বই পড়া, নরম সঙ্গীত শোনা বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দেওয়ার মতো রিলাক্সেশনের জন্য ব্যবহার করা যায়। শেষে পা শুকিয়ে উষ্ণতা ধরে রাখতে মোজা পরুন।

গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখার উপকার
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই সহজ রিলাক্সেশন কৌশল রক্তসঞ্চালন, মানসিক চাপ, ঘুম এবং সার্বিক সুস্থতায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। উষ্ণতার উদ্দীপনা, স্নায়ু সক্রিয়তা এবং মানসিক প্রশান্তির সমন্বয়েই এর উপকার পাওয়া যায়।

রক্তসঞ্চালন উন্নত করে
২০১৯ সালে এনআইএইচ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ফুটবাথ পায়ের রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গরম পানি রক্তনালীগুলো প্রসারিত করে, ফলে রক্ত সহজে সঞ্চালিত হতে পারে।

স্ট্রেস কমায় এবং মনকে প্রশান্ত করে
২০১৮ সালে Complementary Therapies in Clinical Practice জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত ফুটবাথ প্রাপ্তবয়স্কদের স্ট্রেস ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। পায়ের হাজারো স্নায়ুপ্রান্ত উষ্ণ পানির সংস্পর্শে এসে মস্তিষ্কে শান্তির সংকেত পাঠায়, ফলে কর্টিসল মাত্রা কমে।

ঘুমের মান উন্নত করে
এনআইএইচ-এর আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, শোয়ার আগে ফুট সোক করলে ঘুমের মান উন্নত হয়, বিশেষ করে অনিদ্রায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে।

মাংসপেশির টান কমায় এবং ক্লান্তি দূর করে
এপসম সল্ট ব্যবহারে ত্বকের মাধ্যমে ম্যাগনেশিয়াম শোষিত হয়, যা মাংসপেশি শিথিল করে এবং প্রদাহ কমায়। এনআইএইচ-এর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, টপিক্যাল ম্যাগনেশিয়াম রক্তসঞ্চালন ও পেশির আরাম বাড়াতে সাহায্য করে।

যাদের জন্য এই রীতি সবচেয়ে উপকারী
এই রীতি প্রায় সবার জন্য নিরাপদ হলেও কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

বয়স্ক মানুষ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তসঞ্চালন দুর্বল হয় এবং হার্টের ঝুঁকিও বাড়ে। বয়স্কদের জন্য এই রীতি সহজ, দৈনন্দিনভাবে পালনযোগ্য এবং অত্যন্ত উপকারী।

চাপ ও উদ্বেগে ভোগা মানুষ
দ্রুতগতির জীবনে মানসিক চাপ ক্রমেই বেড়ে যায়। অফিসের ব্যস্ততা বা সপ্তাহজুড়ে চাপের পর এই ছোট রুটি মন ও শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শান্ত হতে সাহায্য করে।

ঘুমের সমস্যায় ভোগা মানুষ
অনিদ্রা বা অস্থির ঘুম স্বাস্থ্যকে বহুমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওষুধ ছাড়াই ঘুমের মান উন্নত করার একটি প্রাকৃতিক উপায় হতে পারে এই ফুট সোক রীতি। তবে দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এমন একটি সহজ জাপানি রীতি প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট সময়েই শরীর ও মনকে দিতে পারে গভীর প্রশান্তি। প্রয়োজন শুধু গরম পানি আর কয়েক মিনিটের স্বেচ্ছাবিরতি। নিয়মিত অভ্যাসে এটি হৃদ্‌যন্ত্রণার সুস্থতা, ঘুমের উন্নতি এবং সার্বিক সুস্থতায় আশ্চর্য পরিবর্তন আনতে পারে।