সিফাত! রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে একটা চাকরি করে।
সিফাতদের বাড়ি কুমিল্লায়। কিন্তু প্রায় এক দশক আগে বাবার সাথে লক্ষ্মীপুরে চলে এসেছিলো।
বাবা কামাল হোসেন ছিলেন হকার। হাড়ি-পাতিল ফেরি করে বেড়াতেন।
২০১৯ সালের এক বৃষ্টিভেজা দিনে ফেরি করতে গিয়েই অসাবধানতাবশত বিদ্যু*ৎস্পর্শে মা* যান কামাল হোসেন।
এরপর মা শাহিনুর বেগম একা হাতে সন্তানদের আগলে রাখেন। বাবার অভাব বুঝতে না দিয়ে বড় করতে থাকেন সায়মা, ইকরা, সিফাত আর ছোট্ট শিফাকে।২৫ জুন সিফাত বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন কাজের উদ্দেশ্যে। তখনো সে জানতো না, এটাই তার মায়ের হাতের শেষ খাবার খাওয়া বা বোনদের শেষবারের মতো দেখা।
তার যাওয়ার পরই ওই বাড়িতে হাজির হয় অন্তর মজুমদার। পেশায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা এই অন্তর কিন্তু ওই বাড়িরই সাবেক ভাড়াটিয়া ছিলো। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়।
সকাল সকাল অন্তরকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখে খট*কা লেগেছিলো পাশের বাসার রাণী নামের এক প্রতিবেশীর। তিনি ডেকে জিজ্ঞেসও করেছিলেন, “কী ব্যাপার অন্তর? এত সকালে এখানে কী?”
অন্তর মুখে হাসি ঝুলিয়ে জবাব দেয়, “আরে দিদি, ঘরের পানির পাইপটা ন*ষ্ট হয়ে গেছে, ওটাই ঠিক করতে আসছি।”
ব্যস!
এই পানির পাইপ ঠিক করার ছুতোটাই ছিলো মূলত একটা ট্র্যা/প। ভেতরে তখন মা শাহিনুর আর তিন বোন একলা।
রাণী নামের ওই প্রতিবেশী কিন্তু অন্তরের মুখের কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করেন নি।
তিনি বুদ্ধি করে চুপিচুপি বাইরে থেকে ভেতরের কলাপসিবল গেটটা লক করে দেন এবং আশপাশের লোকজনকে ডাকতে ছোটেন। আর ঠিক এই সময়টুকুর মধ্যেই ভেতরে যা ঘটে গেল, তা কোনো সুস্থ মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না।
ভেতরে ঢুকেই অন্তর একে একে কো*তে থাকে মা শাহিনুর, বড় বোন সায়মা, মেজো বোন ইকরা আর ছোট্ট শিফাকে। ঘরজুড়ে তখন
র*এর বন্যা, গো*ঙা*নির আ*ওয়াজ।
ওই কলাপসিবল গেটটা লক না থাকলে হয়তো খু*অন্তর কাজ শেষে চুপচাপ পালিয়ে যেতে পারত। কিন্তু রাণী গেট আ’টকে দেওয়ায় সে ঘরের ভিতরে আ/টকে পড়ে।
ততক্ষণে এলাকার লোক জড়ো হয়ে গেছে। গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই সবার চোখ চড়কগাছ! চারদিকে চারটি নি’থ’র দে/হ, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে পি’ শা’ চ অন্তর। উ;ত্তে;জি:ত জনতা আর নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি। গণপি* টু* নি*তে ঘটনাস্থলেই আধা ম*করে ফেলে
সেই ঘা*ত*ক*কে।
খবর পেয়ে যখন সিফাত বাড়ি ফিরলেন, তখন তার সাজানো সংসারে লা*কা*ঘরের নি-স্তব্ধতা।
যেখানে বোনদের হাসির আওয়াজ থাকার কথা, সেখানে এখন
পু/লিশের আনাগোনা আর প্রতিবেশীদের কা/ন্নার রোল।
“আমার মা, বোনদের কী অ/পরাধ ছিলো? কেন ওদের এভাবে শেষ করে দেওয়া হলো? এই দুনিয়ায় তো এখন আমার আর কেউ নেই… ও মা গো রে! তুমি কই গেলা!! কি হলো তোমার!!”
হাউমাউ করে কেঁ/দে ওঠা সিফাতের এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ক্ষমতা হয়তো কারোর নেই।
কোথাও এখন তার আপন বলতে কোনো ছায়া অবশিষ্ট নেই।🙂
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, খু*অন্তর আগে এখানে থাকায় পূর্বপরিচিত ছিলো, সেই সুযোগেই সে ভেতরে ঢোকে।
তবে এই হ*কাণ্ডের পেছনের আসল রহস্য কী, তা এখনো পুরোপুরি কুয়াশাচ্ছন্ন।
পৃথিবীতে সবচেয়ে একা মানুষ এখন এই ছোট্ট সিফাত! আহ জীবন!,,
তবে অ’পরাধী যে কারণেই খু/ন করুক না কেন, অ’প’রাধীকে সেখানেই গ*ণ-পি/টু/ নি দিয়ে মে’রে ফেলা হয়েছে আমার হিসাবে এটাই হল সবচাইতে আসল কাজ, না হলে এই অ-প-রাধে সাজা হইতো না সাজা হইলো আগে ১০-১৫ বছর থেকে জেলখানায় বসে বসে সিফাত ও আমাদের টাকা দিয়ে আগে ভাত খাইতো তারপর তার
সা’জা হতো।