বাসর রাতে একবার দেওয়ার পরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন নববধু

পুলিশ যখন মেহেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই একজন সাব-ইন্সপেক্টর ছুটে এসে ওসি সাহেবের কানে কিছু বললেন। ওসি সাহেবের মুখের রং বদলে গেল।

তিনি মেহেরের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন, “মেয়ে, তুমি উঠে বসো। আমরা ভুল করেছি।”

মেহের অবাক হয়ে তাকাল। পুলিশ তার হাত থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে দিল। ওসি সাহেব বললেন, “যে তিনজন তোমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তারা তিনজনই একই চক্রের সদস্য। তারা গরিব সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করে বিদেশে নিয়ে যায়, তারপর টাকা-সোনা নিয়ে ফেলে চলে আসে। তোমার কাছ থেকেও তারা অনেক টাকা নিয়েছে। এটা তাদের পুরোনো কায়দা। আমরা তিনজনকেই আজ সকালে গ্রেফতার করেছি।”

মেহেরের চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছিল। সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “স্যার, আমি তো শুধু ভালোবাসা চেয়েছিলাম… তিন তিনবার বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু প্রতিবারই ঠকে গেছি।”

ওসি সাহেব মেহেরের মাথায় হাত রেখে বললেন, “তুমি অভিশপ্ত নও মেয়ে। তুমি শিকার। আজ থেকে তোমার সব মামলা উঠে গেল। আর তোমার যে টাকা তারা নিয়েছে, সেটাও আমরা উদ্ধার করব।”

সেই রাতে মেহেরের বাসায় আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। মা কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরল। বাবা বিছানায় শুয়ে মেয়ের হাত ধরে বললেন, “আল্লাহ তোর উপর রহম করেছেন।”

কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর ঘটনাটা ঘটল পরের দিন।

মিরপুরেরই একটা ছেলে — নাম আরিফ। সে অনেকদিন ধরে মেহেরকে চুপিচুপি ভালোবাসত। কখনো সাহস করে বলতে পারেনি। সে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে মেহেরের হয়ে সাক্ষী দিয়েছিল। আরিফ মেহেরের বাসায় এসে বলল, “মেহের, আমি তোমাকে অনেকদিন ধরে দেখছি। তুমি যত কষ্ট পেয়েছ, আমি সব জানি। আমি তোমাকে শুধু ভালোবাসা দিতে চাই। কোনো প্রবাসে যাব না। এখানেই তোমার পাশে থাকব।”

মেহের প্রথমে কিছু বলতে পারেনি। তারপর চোখের পানি মুছে হাসল। সেই হাসিটা তিন বছর পর প্রথম সত্যিকারের হাসি।

দুই মাস পর মিরপুরের ছোট মসজিদে আরিফের সাথে মেহেরের সাদাসিধে বিয়ে হয়ে গেল। কোনো লাল বেনারসি নয়, শুধু সাদা শাড়ি। কোনো প্রবাসী স্বামী নয়, শুধু একজন যে সারাজীবন তার পাশে থাকবে।

আজ মেহের হাসে। আফিয়া নামের একটা মেয়ে হয়েছে। আরিফ প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে মেয়েকে কোলে নেয়, মেহেরকে জড়িয়ে ধরে বলে, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দরী বউ।”

মেহের আজও তার পুরোনো তিনটা বিয়ের ছবি দেখে। কিন্তু এখন আর কাঁদে না। হাসে। বলে, “আল্লাহ আমাকে তিনবার কষ্ট দিয়ে শিখিয়েছেন কাকে বিশ্বাস করতে হয়। আর চতুর্থবার যিনি এসেছেন, তিনি সত্যিকারের।”

মিরপুরের সেই বাসায় আজ শুধু হাসি আর ভালোবাসা।