কুমিল্লায় বিবাহের ১৫ দিন পরেই প্রবাসে চলে যান
Facebook Twitter Stumbleupon LinkedIn Pinterest
আমার নাম আয়েশা আক্তার। বয়স ২৪। কুমিল্লার একটা ছোট গ্রামে আমার বাড়ি।
চার বছর আগে আমার বিয়ে হয়েছিল রিয়াজের সাথে। রিয়াজ আমার থেকে ৮ বছরের বড়। দেখতে সাধারণ, কিন্তু খুব ভালো মানুষ ছিল। বিয়ের আগে বলেছিল, “আয়েশা, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। প্রবাসে গিয়ে অনেক টাকা কামাব, তোমাকে সুখে রাখব।”
বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরই রিয়াজ সৌদি আরবে চলে গেল। বিদায়ের দিন আমি কাঁদতে কাঁদতে তার হাত ধরে বলেছিলাম, “তাড়াতাড়ি আসবেন। আমি একা থাকতে পারব না।” রিয়াজ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল, “মাত্র দু-তিন বছর। তারপর আর যাব না। তোমাকে নিয়ে নতুন করে সংসার শুরু করব।”
প্রথম ছয় মাস খুব কষ্টে কেটেছে। প্রতি রাতে আমি তার ছবি দেখে কাঁদতাম। ফোনে কথা বললে সে বলত, “আয়েশা, একটু সবুর করো। আমি তোমার জন্য সব করছি।” আমি বিশ্বাস করতাম।
কিন্তু এক বছর পার হওয়ার পর রিয়াজের ফোন কমে যেতে শুরু করল। মাসে একবার, তারপর দু-তিন মাসে একবার। বলত, “কাজের চাপ অনেক।” আমি একা একা ঘরে বসে থাকতাম। শাশুড়ি-শ্বশুর আমাকে বলতেন, “ছেলে তো টাকা পাঠাচ্ছে, তুমি চুপ করে থাকো।”
দুই বছর পর আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। শরীর খারাপ হতো, মন খারাপ হতো। প্রতি রাতে কাঁদতাম। রিয়াজকে বলতাম, “আপনি একবার আসেন। আমি আর পারছি না।” সে বলত, “আর এক বছর। তারপর আসব।”
চার বছর পার হয়ে গেল। রিয়াজ আর আসেনি। শুধু টাকা পাঠাত। কোনোদিন জিজ্ঞাসা করত না আমি কেমন আছি, কী খাই, কী করি। আমার মনে হয়েছিল— আমি তার কাছে শুধু একটা দায়িত্ব, ভালোবাসার মানুষ নই।
একদিন আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। আমার শরীরে যে দুধ ছিল (যেটা মা হওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল), সেটা আমি নিজের হাতে বের করে ফেললাম। তারপর সেই দুধ দিয়ে নিজের শরীর ধুয়ে ফেললাম। পুরো শরীর, চুল, মুখ— সব।
আমি চিৎকার করে বললাম, “যে স্বামী চার বছর ধরে আমার শরীরের কোনো খোঁজ রাখেনি, তার জন্য আমার এই শরীর আর পবিত্র থাকবে না। আজ থেকে আমি তাকে তালাক দিলাম!”
গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে গিয়েছিল। আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম, “প্রবাসীদের বিয়ে করবেন না। তারা বউকে শুধু টাকা পাঠায়, ভালোবাসা দেয় না। আমি চার বছর একা ছিলাম। কেউ জিজ্ঞাসা করেনি আমি কেমন আছি। আজ আমি নিজের দুধ দিয়ে গোসল করে স্বামীর সাথে সম্পর্ক শেষ করলাম।”
আমি দেনমোহরের টাকাও ফেরত চেয়েছি। বলেছি, “যে টাকা দিয়ে আমাকে কিনে রেখেছিল, সেই টাকা ফেরত নিয়ে যাক। আমি আর তার বউ নই।”
সেদিন আমি অনেক কেঁদেছি। আমার হাতে মেহেদি লাগানো ছিল, যেটা বিয়ের সময় লাগিয়েছিলাম। সেই মেহেদি এখনো কালো হয়ে আছে। কিন্তু আমার মনটা একদম ফাঁকা।
আমি জানি, অনেকে আমাকে খারাপ বলবে। বলবে— “মেয়েটা কী করল?” কিন্তু যারা চার বছর একা একা রাত কাটিয়েছে, শুধু ফোনের অপেক্ষায় থেকেছে, তারা হয়তো আমাকে একটু বুঝবে।
আমি আজ শুধু একটা কথাই বলতে চাই— প্রবাসী ভাইয়েরা, বিয়ে করলে বউকে শুধু টাকা পাঠাবেন না। একটু সময় দিন। একটু ভালোবাসা দিন। নয়তো একদিন সেই বউ নিজের দুধ দিয়ে গোসল করে আপনার নাম থেকে মুক্তি নেবে।
আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু হয়তো আমার এই কান্না আর এই গোসল অনেক প্রবাসী বউয়ের চোখ খুলে দেবে।
আমি আর কোনোদিন বিয়ে করব না। আর কোনো প্রবাসীর সাথে ঘর বাঁধব না।
শুধু কাঁদব। আর চুপ করে থাকব।