ভুক্তভোগী রিনা বলেন জমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার কারণে তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম তাকে তালাক দিয়েছেন এবং সন্তানদের বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে দেনমোহর পরিশোধের হুমকিও দিয়েছেন।প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার ভালোই চলছিল। তবে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ছেলে সন্তানের প্রত্যাশা করতে থাকেন গর্ভধারণের ছয় মাসের সময় আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে জমজ সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরে চিকিৎসকের কাছ থেকে কন্যা সন্তান হওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনার পর থেকেই তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। ভুক্তভোগী রিনা বলেনা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বারবার ছেলে সন্তানের কথা বলতেন এবং কন্যা সন্তান হলে অতিরিক্ত খরচের অজুহাতে নানা অপমানজনক মন্তব্য করতেন। একই সঙ্গে বিয়ের সময় দেওয়া উপহার ও ভবিষ্যতে আরও গরু, চেইনসহ বিভিন্ন জিনিস দাবি করা হতো। এক পর্যায়ে রাকিবুল তাকে বাবার বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়ে পরে আর খোঁজখবর নেননি। এরপর রিনা বাবার বাড়িতেই অবস্থান করেন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশুদের বয়স তিন মাস হলেও তাদের বাবা কিংবা দাদা-দাদির পক্ষ থেকে কোনো খোঁজখবর বা ভরণপোষণ দেওয়া হয়নি । রিনা বলেন, তার মেয়েরা বাবার ও দাদা-দাদির ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়াকেই তার অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। সালিশে তিনি তালাকের কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর পাননি। বরং অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, রাকিবুলের পক্ষ থেকে জমজ কন্যা সন্তানদের বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে কাবিননামার টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। রিনা দাবি করেন, তিনি সন্তানদের কোনোভাবেই বিক্রি হতে দেবেন না এবং প্রয়োজনে ভিক্ষা করে হলেও তাদের লালন-পালন করবেন। বর্তমানে রিনা খাতুন ও তার পরিবার সন্তানদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে গেলে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর থেকেই রাকিবুল ইসলাম, তার বাবা শহিদুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার নতুন কোলা গ্রামে