২০ বছর ধইরা ছাত্র-ছাত্রীদের হাফ ভাড়ায় আনা-নেওয়া করতাছি। পান থেকে চুন খসলেই ভার্সিটির মোড়ে একদল বন্ধুবান্ধব নিয়া গাড়ি আটকাইয়া ঝামেলা করে, তবুও নিজের ভাই-ভাতিজার মতো মনে কইরা সব মাইন্যা নিলাম। কিন্তু তারা যে বড় হইয়া প্রতিষ্ঠিত হইছে, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হইছে, আমাদের মতো বাসড্রাইভার বা শ্রমিকদের জন্য কী করছে? তারা কিন্তু আমাদের মতো শ্রমিকদের বাবা বা চাচার মতো মনে কইরা কোনোদিন হাফ ভিজিট নেয় না। বরং শ্রমিক আইছে শুনে কখনো কখনো তাদের চেহারাও পাল্টে যায়!
সত্যি বলতে, আমি নিজেও যত বছর ধরে শহরে আছি, স্টুডেন্ট কার্ড সাথে থাকলে কখনো ফুল ভাড়া দেই না। কিন্তু ড্রাইভার ভাইয়ের এই কথাগুলো এভাবে উল্টো দিক থেকে কখনো ভেবে দেখি নাই।
আমি নিজে দেখেছি, অনেক সময় কিছু যাত্রী বাসে উঠে টাকা ছাড়া অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন হেল্পার রাগারাগি করলেও ড্রাইভাররাই প্রায়ই হেল্পারকে ধমক দিয়ে বলে— “বাদ দে, ওরে যাইতে দে।” এমনকি স্টুডেন্টরা ঝামেলা করলেও ড্রাইভাররাই হেল্পারদের থামিয়ে রাখে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, যার যার পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমরা কি কখনো এই বাসড্রাইভার বা শ্রমিকদের একটু মূল্যায়ন করতে পেরেছি? অথচ আমাদের নিরাপদে স্কুল-কলেজ বা ভার্সিটিতে পৌঁছানোর পেছনে, আমাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে বাবা-মা আর শিক্ষকদের যতটুকু ভূমিকা, ঠিক ততটুকু ভূমিকা কিন্তু এই পথেঘাটের শ্রমিকদেরও আছে।
শ্রেণি বৈষম্যের এই সমাজকে বদলাতে হলে আগে মানসিকতা বদলাতে হবে। কাজেই যারা এই লেখাটি দেখছেন, ড্রাইভার ভাইয়ের এই গভীর কথাগুলো নেক্সট টাইম অন্তত একবার স্মরণে রাইখেন।
ছাত্রজীবনে যাদের ত্যাগের কারণে আমরা হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করলাম, প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাদের প্রতি আমাদের কি কোনো দায়িত্বই নেই?
এই বাস্তব ও চোখ খুলে দেওয়ার মতো বার্তাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি শেয়ার করুন।